ইতিহাসকে যখন আমরা সামনে রাখব এবং চেতনাটা যখন সব সময় হৃদয়ে ধারণ করব, কারণ সবসময় মনে রাখতে হবে বিপ্লব এটা একদিন দুদিনের কোন ব্যাপার না। এমন না যে জুলাই বিপ্লব সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে। বরং বাস্তবতা এটাই যেই সমস্ত শহীদরা নিজেদের বুকের তাজা রক্ত এই জমিনের মধ্যে ঢেলেছে, যেই স্বপ্ন, যেই লক্ষ্য, যেই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে তারা তাদের সেই বিপ্লবের সূচনা করেছিল সেটা এখনো পর্যন্ত গন্তব্য থেকে অনেক দূরে আছে। শহীদদের রক্তের প্রতি আমাদের ন্য‚নতম কৃতজ্ঞতাবোধ যদি থাকে তাহলে তাদের অসম্পূর্ণ বিপ্লবকে স¤পূর্ণ করা এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্বই বলে নেই। এজন্য কে আমাদের পক্ষ নেবে আর কে বিপক্ষে যাবে, কে ক্ষমতায় গিয়ে শহীদদের রক্তের সাথে অফাদারি করবে আর কে গাদ্দারি করবে আমাদের এগুলো দেখার টাইম নাই। শহীদদের অসম্পূর্ণ মিশন সম্পন্ন করে তবেই আমরা তৃপ্তিভোজন করব ইনশাআল্লাহ।
শনিবার (২৬ জুলাই) নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ও উলামায়ে কিরামের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা সোলায়মান আহসানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র সঞ্চালনায় মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, জুলাইয়ে আমাদের যে সফলতা এসেছিল যতটুকু পর্যন্ত এসেছে আলহামদুলিল্লাহ। এই সফলতার সর্বপ্রথম সূত্রই ছিল দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য। গোটা জাতি যখন ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছিল, সকলে যখন এই পয়েন্টে সেই মোহনায় এসে মিলিত হতে পেরেছিল, যে এই ফ্যাসিস্টরা যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে এই দেশে কেউই শান্তিতে থাকতে পারবে না। কেউই নিরাপদ থাকতে পারবে না। সে যে দলের হোক, যেই ধারার হোক, যেই মতের হোক, যেই সার্কেলের হোক। সুতরাং সবাইকে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবার আগে মাথার উপর থেকে এই জগদ্দল পাথরকে সরাতে হবে। এমনকি জুলাই বিপ্লব চলাকালেও বারবার এই কথাটা বলা হতো যে নেক্সট কি হবে? বুঝলাম আমরা এই ফ্যাসিস্টকে সরাব। এরপর কি হবে? বিকল্পটা কি? তখন বলা হতো বিকল্প কি? বিকল্প আমি, বিকল্প তুমি, বিকল্প আমরা সকলে। অর্থাৎ বিকল্প কি হবে সেটা পরে দেখা যাবে। আগে এই মাথার উপর চেপে বসা এই জগদ্দল পাথরকে এবং ইন্ডিয়ার এই সেবাদাসীকে এই দেশ থেকে এবং ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে হবে। যার কারণে আলহামদুলিল্লাহ সেই বিপ্লব সফলতার মুখ দেখেছিল। তো যেমনিভাবে ফ্যাসিবাদীদের বিপক্ষে জাতীয় ঐক্য হয়েছিল, আমি মনে করি এই বাংলাদেশের মুসলমানরা যদি সেক্যুলার শক্তির বিপক্ষে, ইসলামবিরোধী শক্তির বিপক্ষে, নাস্তিক্যবাদী শক্তির বিপক্ষে এবং সমস্ত ধরনের অপশক্তির বিপক্ষেও এভাবে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারে, দুদিন আগে অথবা দুদিন পরে এদেশের মধ্যেও ইনশাআল্লাহ ইসলামের বিজয় হবেই হবে। কিন্তু ঝামেলা হলো জুলাইয়ে এসে আমরা আমাদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে পেরেছিলাম। প্রত্যেকেই নিজের জায়গা থেকে রাজপথে হাতে হাত মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবতীর্ণ হতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমরা অন্যান্য ক্ষেত্রে কেন যেন এটা পারি না। একজন আরেকজনকে দমানোর জন্য সেক্যুলারদের ব্যবহৃত টিস্যু ব্যবহার করে যাই। একজন আরেকজনকে দমানোর জন্য আমাদের মাথায় কাঁঠাল রেখে ওদেরকে কাঁঠাল খাওয়ার সুযোগ করে দেই। এমনকি ব্রিটিশরা যেই রোল প্লে করেছিল, ডিভাইড অ্যান্ড রুলের একটা পলিসি ওদের ছিল। ব্রিটিশদের একটা কমন পলিসি আমরা সকলেই বলি ডিভাইড অ্যান্ড রুল। যত ভাগ করবা তত ভালো করে শাসন করতে পারবা। এজন্য দেখা যায় যেই দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান, যেই দেশের অধিকাংশ মানুষ খালি মুসলমানই না ধর্মপ্রাণ। মানুষগুলোর ভেতর দ্বীনের মহব্বত আছে, আলেমদের মহব্বত আছে, মসজিদ মাদ্রাসার মহব্বত আছে, এরপরও এই দেশের মধ্যে ইসলামকে কেন আমরা বিজয়ী করতে পারছি না? এখনো কেন সেক্যুলার শক্তিগুলোই এগিয়ে থাকে? এখনো কেন এই বাংলাদেশের মধ্যে কাফের দেশগুলোর, কাফের পরশক্তিগুলোর এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়িত হতে থাকে? আমি মনে করি এর পেছনে সবচাইতে বড় কারণ হলো আমাদের ঐক্য। যেদিন এই দেশের মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে, সেদিনের বাংলাদেশে ইসলামের পতাকা পতত করে উড়তে থাকবে। সুতরাং জুলাইকে সামনে রেখে আমাদের প্রথম চেতনা হোক আমাদের দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সেক্যুলার শক্তির বিপক্ষে, সমস্ত জাহেলিয়াতের বিপক্ষে, ইসলামবিরোধী সকল চক্রান্তের বিপক্ষে। তবেই ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মুসলমানদের প্রকৃত মুক্তি এবং প্রকৃত শান্তি আসবে। জুলাইয়ে আমরা দেখেছি ওলামা এবং জনতা সকলেই আলহামদুলিল্লাহ এক কাতারে নেমে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, জুলাইয়ের মধ্যে কিন্তু শুধুমাত্র এক শ্রেণী আন্দোলন করেনি, বরঞ্চ সমস্ত শ্রেণীগুলোই এখানে এসে এক কাতারে সমবেত হয়েছে। যেমনিভাবে নামাজের মধ্যেও দেখা যায়, নামাজের মধ্যে কে রাজা, কে প্রজা, কে হুজুর, কে সাধারণ জনতা, কে তাবলীগ, কে সুফি, কে পীরের মুরিদ, কে নামাজভাবী এগুলো কোন ভেদাভেদ থাকে না। বরং আল্লাহু আকবার বলার আগেই সকলে সুন্দর কাতারবদ্ধ হয়ে যায়। যখন যুদ্ধ চলে তখন একজন থাকে রাজা যার নাম সুলতান মাহমুদ গাজনাভি। আরেকজন থাকে তার প্রজা যার নাম ভৃত্য আয়াজ। কিন্তু যখন নামাজের ইকামত হয়, আলহামদুলিল্লাহ তখন কে রাজা আর কে প্রজা এগুলো দেখার টাইম নেই। সকলেই সুন্দরভাবে একদম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। তো জুলাইয়ে যেমনিভাবে ওলামা জনতা এক কাতারে নেমে এসেছিল, আমি মনে করি এখান থেকে আমাদেরও একটা শিক্ষা হলো ইসলামপন্থী নেতৃত্ব যারা রয়েছে, বিশেষ করে ওলামা সমাজ, তারা যদি সাধারণ জনতার সাথে জনবন্ধ ইস্যুতে জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে মিশে যেতে পারে, এই জাতি ওলামাদের হাতে জাতীয় নেতৃত্ব তুলে দেবেন ইনশাআল্লাহ। কিন্তু অধিকাংশ সময় আমরা দেখা যায় নিজের ধর্মীয় বিষয়গুলোতে যতটা সরব থাকি, জাতির বিপদাপদ অথবা জাতির দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে আমরা অত সফল হতে পারি না। তেলের দাম কমলো না বাড়লো, গ্যাসের দাম কমলো না বাড়লো। দ্রব্যমূল্য মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকলো নাকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলো। এরকম কত ইস্যু মানুষের সারা বছরই লেগে থাকে। যদি মানুষ দেখে আলেম ওলামা যেহেতু এটা ওলামা বিভাগের পক্ষ থেকে আয়োজন, যে ওলামা এই চার্টিও বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় না, এগুলো নিয়ে তাদের কোনো দুশ্চিন্তা নাই। তাদের দুশ্চিন্তা জাস্ট পাঁচটা দশটা ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে। এগুলো নিয়ে তারা সারা বছর দেশ গরম করে। এর বাইরে তাদেরকে টর্চ দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন যদি হয়, মানুষ আমাদেরকে সালাম দিবে, আমাদেরকে হাদিয়া দিবে, আমাদেরকে মাহফিলে দাওয়াত দিবে। কিন্তু আমাদের হাতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তুলে দেবে না। রাজনীতি তো হয় সকলের জন্য। শুধুমাত্র আমার ছাত্রের জন্য না, আমার মুরিদের জন্য না, আমার দলের লোকের জন্য না। রাজনীতি তো এই রাষ্ট্রের প্রতিটা শ্রেণীর মানুষের জন্য। তো যার কারণে আমি মনে করি ওলামা যত ধরনের দল আছে বাংলাদেশে যত ধারা আছে, সমস্ত ওলামারা যদি জনগণের মৌলিক প্রয়োজনগুলোতে তাদের পাশে থাকে একদম সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো হয়ে, এই জনগণই তাদেরকে মসজিদে যেভাবে সামনের কাতারে এগিয়ে দেয়, রাজনৈতিক নেতৃত্বেও তাদেরকে সামনের কাতারে এগিয়ে দেবে ইনশাআল্লাহ। সুতরাং এই মনোবল যতদিন আমাদের ভেতরে না আসবে ততদিন পর্যন্ত আমরা সফল হতে পারবো না। এমনকি আমি মনে করি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও যতটা অগ্রসর হয়েছে এই ক্ষেত্রেই তারা তুলনাম‚লকভাবে এই কারণেই এগোতে পেরেছে যে জনগণ মনে করেছে যে এই মানুষগুলো তারা যদি দায়িত্বে আসে শুধুমাত্র ধর্মীয় ইস্যু, শুধুমাত্র মসজিদ মাদ্রাসার ইস্যু নিয়ে কথা বলবে না। বরঞ্চ তারা আমাদের ইস্যুগুলোকে হ্যান্ডল করবে। পাশাপাশি আমাদের হক মেরে খাবে না। আমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করবে না। আমাদের ক্ষতি করবে না। উল্টো আমাদের বিপদে আমাদের পাশে দাঁড়াবে। যতটুকু এগিয়েছে এটার কারণেই এগিয়েছে। আগামী দিনে আস্থা যত বাড়বে ইনশাআল্লাহ। জামায়াতকে যারা ভোট দিয়েছে সবাই কি জামায়াত করে? জামায়াতকে যারা ভোট দিয়েছে সবাই জামায়াত করে? এমনকি বাস্তবতা তো এটাই ভোট যত গুণ দিয়েছে তার অনেক গুণ তো আমরা রক্ষাই করতে পারি নাই। যদি পারতাম এখন হয়তো বাংলাদেশের অবস্থাতেই ভিন্ন হতো। এখান থেকে আমি মনে করি অন্যান্য ভাইদের জন্য আমি বার্তাটা রেখে দিতে চাই। যেই পরিমাণ সময় ব্যয় করেন অন্য দলকে দমন করার জন্য, অন্য মতকে পঁচানোর জন্য, এর শিকে ভাগ সময়ও যদি ব্যয় করতেন জনমানুষের ইস্যুগুলোকে হেন্ডল করার জন্য, জাতি আপনাদেরকেও এর চাইতে আরও এগিয়ে দিত ইনশাআল্লাহ।
মুফতি আলী হাসান উসামা আরো বলেন, জামাতের আকিদা নিয়ে তো অনেক আলাপ আলোচনা হয় বাংলাদেশে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে সমালোচকদের পক্ষ থেকে যার বড় একটা অংশ। এটা নিয়ে আমি আর এখানে আলোচনা করতে চাচ্ছি না। যেহেতু এ নিয়ে আমার বইও লেখা হয়েছে এবং এই কয়েকদিনের মধ্যে বের হবে ইনশাআল্লাহ। সেটা আমার মূল বিষয় না। মূল বিষয় হলো জামায়াতের আকিদা রাখেন সেক্যুলার আকিদা হক না বাতিল? সকল ক্ষমতার মালিক বিশ্বাস না করা বরঞ্চ মানুষকেই সর্বময় ক্ষমতার মালিক বিশ্বাস করা হক না বাতিল? এমনকি চাঁদাবাজি করা, চুরি করা, ধর্ষণ করা, খুনখারাবি করা, মাদক কারবার করা, আরও বিভিন্নভাবে ভÐামি করা। এমনকি শহীদদের রক্তের সাথে পর্যন্ত গাদ্দারি করা এগুলো হক না বাতিল? তাহলে এক বাতিল নিয়ে আপনি খুব সোচ্চার। আরেক বাতিল নিয়ে আপনার মুখে তালা কেন? সকলে মিলে ওই বাতিল যেটা নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নাই। কারণ আমি যে সমস্যাগুলো বললাম এগুলো নিয়ে কোনো মাযহাবের দ্বিমত নাই। কোনো মাসলাকের দ্বিমত নাই। কোনো সেক্যুলারে দ্বিমত নাই। কোনো ঘরানার দ্বিমত নাই। এমনকি কেউ যদি নাস্তিক হয়, বাম হয় ও যদি বিবেককে বরগা না রাখে ও সারধারণ জ্ঞান অন্তত থাকে, ওরও দ্বিমত করার সুযোগ নাই। তাহলে যেগুলো দ্বিমতের ঊর্ধ্বে আসেন না, সবার আগে সেটাকে দমন করি। কারণ দুইটা জিনিস আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একটা হলো ৫০% খারাপ। আরেকটা হলো ১০০% খারাপ। তো আপনার তর্ক অনুসারেও যদি মানি যে একটা ৫০% খারাপ তো সারা জীবন কি ৫০% এর পেছনে কাটাবেন? বাকি যেটা ১০০% খারাপ ওইটার দিকে একটু নজর দিবেন না। আরে ভাই পান্তা ভাত পঁচলে আর কতদূর গন্ধ হবে? বিরিয়ানি পঁচলে গন্ধ তো বেশি হবে। তাহলে পচা বিরিয়ানি আগে দূর করেন। না হলে সেই গন্ধে আপনার পেটও খারাপ হয়ে যেতে পারে। তারপর আসেন কার আকিদা ভালো, কার আকিদা খারাপ। এগুলো তো আমাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা। এগুলো চা খেতে খেতে বসে আমরা আলোচনা পর্যালোচনা চালাতে থাকবো ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যেগুলো চিহ্নিত বাতিল আগে ওগুলোর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনব ইনশাআল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেরপুর- ১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা রাশেদুল ইসলাম বলেন, কোন গোষ্ঠীকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ক্ষমতায় আনবেন? আজকে জুলাই বিপ্লব নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এই বিপ্লব আবারও আরেকটা করতে হতে পারে। কিন্তু আমি যদি বিপ্লব ধারণ করতে না পারি, যদি আমি এর ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ করতে না পারি, আমার করণীয় নির্ধারণ করতে না পারি যে আগামী দিনে কারা ক্ষমতায় আসবে, এখন কেন তারা ক্ষমতায় আসলো, সেগুলো যদি আমার হিসাব-নিকাশের এর মধ্যে না থাকে তাহলে আমি মনে করব যে আমাদের জন্য ভবিষ্যতের দিনগুলো আরও বেশি কণ্টকাকীর্ণ হতেও পারে। আল্লাহ মাফ করে দিন আমাদেরকে। সম্মানিত হাজিরীন, কথা শুধু এটুকুই বলব। মতপার্থক্য এবং মতবিরোধ এক করে ফেলবেন না। অবশ্যই মতপার্থক্য ছিল, আছে, হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু এটাকে মতবিরোধ পর্যায়ে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে না। এজন্য আজকে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় ইস্যু হচ্ছে বর্তমান সরকার। এই বিরাট সংখ্যক আলেম ওলামারাও এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করল। সত্তর ভাগ মানুষ যে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিল। অথচ যে সরকার দাবি করে তারা বায়ান্ন শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সত্তর ভাগের মধ্যে যদি বায়ান্ন ভাগ থাকে তাহলে তো বেশিরভাগই সেই সরকারেরই। তাহলে সেই সরকার কেন আজকে গণভোট মেনে নিচ্ছে না? আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী দিনে যেকোনো সংকট মোকাবেলা, এটা যদি বুঝতে না পারি যে বাংলাদেশে আগামী দিন বলি আর আজকে বলি কোনটা সবচেয়ে বড় সংকট? এখন আমরা নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য আর মতবিরোধের বিষয় খোঁজাখুঁজি নিয়ে ব্যস্ত আছি। অথচ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে এদেশের সকল মানুষের, বলব অধিকাংশ মানুষের, যেটি হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই সনদ এবং গণভোট সেটিকে পায়ে দলে পায়ে পিষে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে হাসতে হাসতে। আমাদের ত্রæটি বিচ্যুতিগুলোর কথা আমাদের দায়িত্বশীলরা বলেছেন এখানে। নেতৃবৃন্দ বলেছেন। সেগুলো নিয়ে তারা উল্লাস করছে। আর আমি চুপচাপ মনে করছি যে এটি আমার জন্য নিয়তি। ওইটা আমার জন্য না। এটা নিয়ে আমার কাজ না করলেও চলবে। তাহলে আমরা বোকার স্বর্গে বসবাস করছি। এই জায়গা থেকে আমাদের বের হয়ে এসে সঠিক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কাজ ভাগ করে নিতে হবে এবং আগামী দিনে যেকোনো সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা অন্তর থেকে হৃদয় থেকে যেভাবে এই জুলাইকে ঢালম এসেছিলাম, এই জুলাইয়ের পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করেছিলাম, সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যে এখন ঐক্য নিশ্চিত করার কাজে আমাদের ব্যাপকভাবে তৎপরতা রাখতে হবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, আজকে যারা আয়োজন করেছেন তাদের এই আয়োজনকে এবং জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, প্রমত্ত পরশ করেছেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কবুল করুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর মোঃ আব্দুল করিম, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মোঃ আছাদুজ্জামান সোহেল, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও ময়মনসিংহ- ৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ কামরুল হাসান মিলন, সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, মহানগর জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার, বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খান সহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।