বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহিদের কবর জিয়ারত ও দোয়ার আয়োজন করেন|
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে নগরীর আকুয়া মাদরাসা কোয়ার্টার ও ভাটিকাশর গোরস্থানে এই কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়|
আকুয়া মাদরাসা কোয়ার্টার গোরস্থানে ১৯ জুলাই ২০২৪ এ শহীদ রিদওয়ান হোসেন সাগরকে দাফন করা হয় এবং ভাটিকাশর গোরস্থানে ৪ আগস্ট ২০২৪ এ উত্তরা আজামপুর মোড়ে শহীদ আব্দুল্লাহ আল মাহিনকে দাফন করা হয়|
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আসাদুজ্জামান সোহেলের নেতৃত্বে কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ রিদওয়ান হোসেন সাগরের পিতা মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ|
মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আজ আমি একজন বাবা হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি| আমার বুকের ভেতর যে শূন্যতা, তা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়| ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আমার সন্তান সাগরকে আমি হারিয়েছি| একজন বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের মৃত্যু পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কষ্ট| সাগর ছিল আমাদের পরিবারের স্বপ্ন, আমাদের আশার আলো| তারও অনেক স্বপ্ন ছিল—পরিবারকে ভালো রাখা, দেশের জন্য কিছু করা, সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়া| কিন্তু সেই স্বপ্নগুলো আজ অসমাপ্ত হয়ে আছে| আমি আমার সন্তানের জন্য বিচার চাই, তবে সেই বিচার হোক আইনের মাধ্যমে, ন্যায়বিচারের মাধ্যমে| আমি চাই, আর কোনো বাবা-মাকে যেন আমার মতো সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়| আর কোনো পরিবার যেন এমন অসহনীয় বেদনার মধ্য দিয়ে না যায়| আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমরা যেন ঘৃণা নয়, ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তির পথ বেছে নিই| যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ যেন আমাদেরকে একটি আরও ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা দেয়| আমার সন্তানের জন্য সবাই দোয়া করবেন| আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং আমাদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দেন|
মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আসাদুজ্জামান সোহেল বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাস আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক রক্তঝরা অধ্যায় হয়ে থাকবে| দীর্ঘদিনের স্বৈরচারী শাসন, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে আমাদের তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল| তারা চেয়েছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং ইনসাফপূর্ণ সমাজ| এই আন্দোলনে ময়মনসিংহের ছাত্র-জনতা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে| আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সকল বীর শহিদদের, যারা বুক পেতে দিয়ে বুলেট গ্রহণ করেছেন, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি| আমাদের ময়মনসিংহের দামাল ছেলেরা তাদের রক্ত দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে| আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না| তারা যে আগামীর স্বপ্ন দেখেছিল—সেখানে থাকবে না কোনো জুলুম, থাকবে না কোনো স্বৈরাচার, থাকবে না কোনো দলীয়করণের নামে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন| একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য|
যারা এই আন্দোলনে আহত হয়েছেন, তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং শহিদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব| ময়মনসিংহে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরা শুরু থেকেই তাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও এই পরিবারের দায়িত্ব নিতে আমাদের কর্মীরা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে| আসুন, শহিদদের এই আত্মত্যাগকে পুঁজি করে আমরা এমন একটি সমাজ গড়ি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, যেখানে কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে এবং যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে| সবশেষে, মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি, তিনি যেন আমাদের এই শহিদদের কবুল করেন, তাদের জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করেন|
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মাহমুদ উল্লাহ ফারুকী, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সার, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার, যুব বিভাগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারী, কর্মপরিষদ সদস্য হায়দার করিম, আব্দুল আজিজ, ডা. আসাদ, আবু কাউসার, আল মামুনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ|