ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শাহগঞ্জ গ্রামের এক সাধারণ তরুণ ইয়াসিন শাওন। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি একজন সফল ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন।
এই বয়সে যখন অন্য শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা বা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত, তখন এই তরুণ তার নিজস্ব ডিজিটাল এজেন্সির মাধ্যমে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আয় করছেন।
বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়ণরত একজন শিক্ষার্থী।
ইয়াসিন মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান দেন। তিনি মূলত হ্যাক হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার থেকে শুরু করে, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভুয়া রিপোর্ট সরিয়ে ফেলা এবং বিজনেস অ্যাকাউন্ট সেটআপের মতো সব ধরনের ডিজিটাল সাপোর্ট দিয়ে থাকেন প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য গ্রাহক তার এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
নিজের এমন উদ্যোগের বিষয়ে ইয়াসিন বলেন, “আমি যখন দেখলাম হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন নানা ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়ছে, কিন্তু সঠিক সমাধান পাচ্ছে না, তখন থেকেই নিজে শেখা শুরু করি। প্রথমে পরিচিতদের সাহায্য করতাম, আর ধীরে ধীরে নিজের একটি এজেন্সি গড়ে তুলি।”
ইয়াসিনের এই ডিজিটাল সেবা থেকে উপকৃত হয়েছেন এমন অনেকেই তার কাজের প্রশংসা করছেন।
ব্যবসায়ী তরিকুল বলেন,আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল,আমার ব্যবসার জন্য ফেসবুক অ্যাকাউন্টটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হ্যাক হওয়ার পর আমি খুবই দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। ইয়াসিন শাওনের টিমের মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমি আমার অ্যাকাউন্ট ফিরে পাই।যার ফলে আমি বড় ধরণের একটি ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছি।
কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সোহেল মিয়া জানান,তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ভুয়া রিপোর্টের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে অনেক জায়গায় গিয়ে যখন কোন সমাধান না পেয়ে হতাশায় ছিলেন তকন ইয়াসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি দ্রুত সমস্যাটি সমাধান করে দেন।
এবিষয়ে প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, ইয়াসিন শাওনের এই সাফল্য দেশের তরুণ সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বয়স কোনো বাধা নয়। সঠিক লক্ষ্য, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো তরুণ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।