বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীর দূর্গম চরে পতিতাবৃত্তি, অশ্লীল নাচ, মাদক ও জুয়ার আসর গুড়িয়ে দিলো পুলিশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দয়িত্বশীল সমাবেশে অ্যাড: আতিকুর ভূরুঙ্গামারীর মুগ্ধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে আটক-১, ম্যানেজার পলাতক কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ফুলবাড়ীতে জুয়ার আসরে দেড় লক্ষাধিক টাকাসহ আটক-১৫ কুড়িগ্রামের চার উপজেলায় চব্বিশ কোটি টাকার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ৪ বছরেও চালু হয়নি কুড়িগ্রামের উলিপুরে পাঁচপীর বাজারে গ্রামীণ বাজার ছাউনি ও ওয়াশ ব্লকের উদ্বোধনসহ দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত কুড়িগ্রামে শিবিরের আয়োজনে জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বোকাইনগরে জলবদ্ধতা নিরসনে সমাজসেবক আনিসুর রহমানের মহতী উদ্যোগ এসএসসি ফলাফলে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাশের হারে এগিয়ে মেয়েরা কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে আসামীসহ ৭৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল আটক

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে টেলিফোন, অফিস আছে নেই সেবাপ্রার্থী

এহসানুল হক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট : শনিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

মোবাইল ফোন সহজলভ্য হওয়ার আগে একসময় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মানুষের একমাত্র ভরসা ছিলো টেলিফোন। তখন প্রসংশা কুড়িয়েছিল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের সেবা। দেশের বাহিরে যারা অবস্থান করতেন, তাদের পরিবারের লোকজন রাত-দিন ঘন্টার পর ঘন্টা এখানে অপেক্ষা করতেন স্বজনদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে টেলিফোন ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের কাজকর্ম ।

সবার হাতে হাতে মোবাইল থাকায় কমে গেছে এই অফিসের গুরুত্ব। বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সুযোগ-সুবিধার কারণে দিন দিন টেলিফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকরা। এখন আর আগের মতো নেই মানুষের কোলাহল। কার্যত নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে অফিসটি।

শনিবার ঈশ্বরগঞ্জ টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিস
সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনের অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অফিসটিতে ঢুকতে হাতের বাম পাশে রয়েছে ক্ষুদ্র জলাশয়,সেখানেও ফেলা হয় ময়লা। নেই কোন সীমানাপ্রাচীর। ঝুঁকিপূর্ণ, জীর্ণ ও দরজা-জানালার অধিকাংশই ভাঙা।

এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, যান্ত্রিক ত্রুটি, জরাজীর্ণ লাইন ও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে টেলিফোন সংযোগগুলো বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিকল সংযোগ মেরামত করছেন না। উল্টো প্রতিমাসে গ্রাহকের নামে বিল পাঠাচ্ছে। গ্রাহক বাধ্য হয়ে বিকল সংযোগের সেই বিল পরিশোধ করছে।

ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্তত ১০ বছর ধরে কলেজের সংযোগটি বিকল হয়ে রয়েছে। তিনি অনেক যোগাযোগ করেও সংযোগটি চালু করতে পারেননি। লাইন সংযোগ না হলেও বিল পরিশোধ করতে হয় সেজন্য তিনি টেলিফোন অফিস কর্তৃপক্ষকে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করতে বলেন। পরে তারা কি করেছে তা আর তিনি বলতে পারছেন না। এখন আর বিল নিতে আসে না কেউ। তিনি আরও বলেন, টেলিফোন সংযোগ প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, সীমানা প্রাচীর না থাকায় মাদক সেবনকারী ও বখাটেদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে এই অফিসটি।

অপরদিকে টেলিফোন অফিসটির তত্ত্বাবধানে থাকা অফিস সহায়ক মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, বর্তমানে উপজেলার টেলিফোন এক্সচেঞ্জটির লাইন সংযোগের সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ টি। তার মধ্যে ৭ থেকে ৮টি সংযোগ স্থানীয় গ্রাহকদের। আর বাকী গুলো বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সংযোগ আছে। আমি একা অফিসের সবকিছু দেখাভাল করছি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ টেলিকমের
উপ-মহাব্যবস্থাপক (অতি:দা) হানিফ উদ্দিন কোন মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. হাফিজা জেসমিন বলেন, মোবাইল ফোন সহজলভ্য হওয়ার কারণে এখন আর মানুষ আগের মতো ল্যান্ড ফোন ব্যবহার করে না। তবে আমাদের সরকারি অফিস গুলোতে নিয়মিত ল্যান্ড ফোন ব্যবহার করা হয়। তিনি আরও জানান, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বরতদের সাথে আলোচনা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরও পড়ুন