শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদকাসক্ত কারাবন্দীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কাউন্সিলিং সেসন অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জাতীয় পর্যায়ের তুখোড় বিতার্কিক তানজিল আহমেদ তালুকদার ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি সচেতন নাগরিকদের কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ১২ কেজি গাঁজাসহ ব্যবসায়ী ১মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ইসলামী আন্দোলনের নিবেদিত প্রাণ ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল: জেলা জামায়াতসহ বিভিন্ন মহলের শোক শ্রমিকদের শরীরের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করুন মারামারির ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে মামমলা কুড়িগ্রামে ইসলামী ছাত্রশিবির পলিটেকনিক সভাপতির উপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলা কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধা বৃত্তি প্রদান

অতঃপরও আমরা বাঙালী

আ শ মামুন
  • আপডেট : শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৮৩৬ বার পড়া হয়েছে

(ময়মনসিংহের বিখ্যাত টড়ী টেইলার্সের মাস্টার আঃ মালেক মামা কে উৎসর্গ)

চারদিকে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরাট উৎসব
হাটে মাঠে ঘাটে রঙিন সামিয়ানা
চলছে বাঙালির বোশেখ উদযাপন
কিশোর কিশোরীর গালে মুখে রঙের মাখামাখি
খুশির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে ভারতবর্ষ।
বিত্তবানের চিত্তের সুখ
ইলিশের বাজারে দামের হাঁকাহাঁকি
আসাদ মার্কেটে ঈদ-বৈশাখের উপচেপড়া ক্রেতার ঢল
পকেট ভারীদের নিদারুণ অনুভূতি
তালুকদার, মীর,চৌধুরীদের বড়াই বড়াই খেলা।

অথচ আঃ মালেকের ভাগ্য আর সুপ্রসন্ন হলোনা
শহরের বিখ্যাত “টড়ী” টেইলার্সের মাস্টার আঃ মালেক। আলীয়া মাদ্রাসা রোডের লিকলিকে গড়নের মালেক কিশোর বয়স থেকেই টড়ীর কারিগর।
নিপুণ হাতের স্পর্শে সেলাই মেশিনের কটকট আওয়াজ তুলে দিনরাত খেটেখুটে নামধারী ভদ্র
সমাজের বিত্তবান সৌখিন শ্রেনীর পছন্দের ইংলিশ মডেলের চমৎকার পোশাক তৈরী করেন।
প্রায় চল্লিশ বছর যাবৎ একনাগাড়ে খেটেই চলেছেন নিম্নতর মাসোহারা নিয়ে।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আর বদ্ধ খুপরি ঘরের কোনায় বসে পায়ে হাতে চিন্তায় চেতনায় বুঁদ হয়ে চালাচ্ছেন ঝিঁঝি পোকার আওয়াজ তোলা নিদারুণ দর্জি বিজ্ঞানী।

সেদিন লেখক, টড়ীতে গিয়ে সেই নামদারী মালেকের খোঁজ নিলেন।
একজন দাড়িওয়ালা যুবক বললো
মালেক এখন টড়ীতে নেই।
কেন নেই বললে উত্তরে জবাব এলো মালেকের আর খাওয়া নেই।
অত্যন্ত বিদ্রুপ করে বললো,
মালেকের টাইম শেষ, মানে মালেক আজ মূল্যহীন।
জীবনের সবটুকু মূল্যবান সময় টড়ীতে কেটে গেলে
অথচ বিদায় বেলা পাইনি কোন এককালিন অর্থ, নেই কোন বিদায় সংবর্ধনা, নেই কোন শান্তনার বাণী। পেয়েছে এক হেয়ালির বাণী,চলে যাও।
নিরবেই চলে যেতে হলো শেষে।

একজন আঃ মালেকের মত, হকার্স,বারি প্লাজা,বাসাবাড়ি সহ অসংখ্য মার্কেটের পেছনে হাজার পোষাক শ্রমিক কাজ করে যায়।
এমনি করে আপনার আমার মন খুশী করতে কারখানার বদ্ধ কুটিরে পর্দার আড়ালে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে চলেছেন লাখো কোটি পোশাক আর নির্মাণ শ্রমিক।
তাদের কোন ঈদ আনন্দ নেই,নেই বৈশাখের আনন্দযাত্রা।
ঈদের দিন সকালেও মালেক,হাসিম,বাবুল কাজ করে নিঃশব্দে।
এমনি করে দেশের বৃহৎ চা রফতানির সূর্য সৈনিক একজন চা শ্রমিক কাজ করে যায় দৈনিক ১৭০ টাকা রোজে।
এমন মর্মান্তিক দিনযাপনের ইতিহাস আর কোথায় আছে বলতে পারেন?
তাদের বৈশাখ যায় নাইল্ল্যাশাক আর ঝাঁঝ মাখা শুকনোমরিচের লবন পাতে।

জনসংখ্যার অর্ধেক ঐ কৃষিজীবি লালমিয়া,ফুলমিয়ারা রোদে পুড়ে জীবনের দামে উৎপাদন করে ভাতে মাছে বাঙালির প্রধান খাদ্য।
ডেইরি ফার্মের মালিক সেলিম, নাজমুলরা নিজেকে শেষ করে দিয়ে দুধের যোগান দিয়ে যাচ্ছেন,
তাদের ঘরেও ঈদের আনন্দ তেমন বোঝা যায়না।
কষ্টে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে দেনায় কাটে বারোমাস।
তাদেরও
বোশেক চলে যায় চেপা শুটকি আর কাঁচা মরিচের ঘ্রাণে।

তারপর আপনারা সৌখিন উচ্চ বিলাসী আর বৈশাখের আনন্দের বর্তমান অপসংস্কৃতির নামে রাস্তায় নেমে যান নিজেকে প্রকাশের উম্মাদ রেওয়াজে।
এবার বাসের হেলপার,সিএনজির ড্রাইভার,অটোওয়ালা আর রিক্সা চালক হয়ে ওঠে দারুণ প্রয়োজনীয় কেউ।
অতঃপর ২ রা বৈশাখে ভুলে যান গতকালের বিগ্রে যাওয়া নকল বাঙালিয়ানার গল্প।
এদিকে ইফতার পার্টিতে চলে ব্যাপক আয়োজন।
শহরের নামীদামি রেস্তোরাঁ ধানসিঁড়ি, নবাবী,কাচ্চিমশাই,সেফ্রনে পাল্লা দিয়ে চলে খরচের বড়াই।
তারপর ঈদ শেষে ঈদ পুনর্মিলনীর উৎসব চলবে ১০ লক্ষ,২০ লক্ষ টাকার বাজেটে।
অথচ পাশের বাড়ির জরিনা,রসুলপুরের সূর্যবানু,মৌগাতীর সহায় সম্বলহীন অন্ধ সুফিয়া মানবেতর জীবন কাটায়।
আর গ্রামে,গঞ্জে, শহরে, বন্দরে, মসজিদের গেটে আদালতপাড়ায় ভিক্ষুক আর সাহায্য প্রার্থীর অভাব নেই।
এইতো আমাদের বাঙালিয়ানার গল্প।
অতঃপর আসবে কোরবানি ঈদ আর দুর্গাপূজার মহোৎসব।
কোটি কোটি টাকার খরচে চলবে আনন্দের জোয়ার আকাশে বাতাসে।
অতঃপর ফেসবুক গরম করা লম্বা স্ট্যাটাস।
এভাবেই একের পর এক উৎসবে চলে যায় বারোমাস।
অভাব যতই থাকুক উৎসবতো পালন করবোই,
আমরা আমজনতা তবুও রসগোল্লার স্বাদ চিড়ায় মিটাবো
আর সাহেবী ঢঙে হাইয়েচ, পাজারো, প্রাডোতে চড়া অহংকারী টাকাওয়ালাদের দেমাক দেখবো।
অতঃপরও আমরা বাঙালী।

Please Share This Post in Your Social Media

আরও পড়ুন