পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে জমে উঠেছে ঈদ বাজার।শপিং সেন্টারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়।
সোমবার (২৪ মার্চ) নগরীর বিভিন্ন শপিংমলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের পছন্দসই পোশাক কিনতে বিভিন্ন মার্কেটে ছুঁটে চলছেন ক্রেতারা।
ঈদ এলেই নামিদামি ব্র্যান্ডের পোশাকের প্রতি আলাদা আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায় ক্রেতাদের মাঝে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন নতুন পোশাক দোকানে তোলেছেন দোকানিরা।
নগরীর পালিকা শপিংমলের ব্যবসায়ী রাজু মিয়া “খবর সংযোগকে” বলেন,এইবার পোশাকে মেয়েদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে হিরামান্ডি, ফার্সি, সারারা, গারারা, ফার্সিকাট, মুসকাল ও আফগান থ্রি-পিস।অন্যান্য বিদেশি পোশাকের পাশাপাশি এবার নতুন আঙ্গিকে বাজারে এসেছে মেয়েদের ফারসি ড্রেস।
এছাড়াও পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের চাহিদা এইবার সবচেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।মুন্নি মার্কেটের ব্যবসায়ী সাঈদ কামাল বলেন,বিদেশি ড্রেসের চাহিদা বেশি তবে সামনে গরম থাকার কারনে অনেকে আবার দেশীয় সুতির কাপড় কিনছে।আমাদের কেনাকাটা গতবারের চেয়ে এইবার একটু বেশি ভালো।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী প্রিয়া আক্তার বলেন, বলেন,আমার এইবারে ঈদে পছন্দের তালিকায় আছে পাকিস্তানি থ্রি-পিছ। পাকিস্তানি পোশাক আমার কাছে বেশি গর্জিয়াস লাগে এবং এটার প্রতি আমার দুর্বলতা একটু বেশিই।দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মার্জিয়া বলেন,আমার পছন্দ দেশি পোশাক কারন দেশি পোশাক পড়ে আমি যতটা কমফোর্ট ফিল করি বিদেশি পোশাকে ততটা পাইনা।তাই আমি বাবা মায়ের সাথে শপিং করতে এসে দেশীয় পোশাক কিনে নিচ্ছি।
ছেলেদের পোশাকের তালিকায় আছে পাঞ্জাবী, জিন্স প্যান্ট, শার্ট টি-শার্ট।রফিকুল হক পেশায় তিনি একজন শিক্ষক তিনি বলেন,আমি ঈদ কেনাকাটায় সবসময় দেশীয় পোশাক বেশি রাখি। পাঞ্জাবী আমার প্রথম পছন্দ।আমি বাসার সবার জন্য দেশীয় ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পোশাক কিনে থাকি।কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাদিক খান বলেন,আমি এবং আমার বন্ধুরা একসাথে ঈদের শপিং করতে এসেছি।আমরা পছন্দমত জিন্সের প্যান্ট টি-শার্ট পাঞ্জাবী কিনেছি খুবই ভালো লাগছে।
তবে পোশাকের দোকানে ভীড় থাকলেও কসমেটিকসের দোকানে তার উল্টো চিত্র। কসমেটিকসের দোকানে ক্রেতার আনাগোনা খুবই কম।একজন বিক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমাদের বেচাকেনা অনেকটা কম বললেই চলে তবে আশা করি দিন যত যাবে ক্রেতার পরিমাণ বাড়বে।
তবে পোশাকে দাম নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ দোকানিরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। আবার বিক্রেতারা বলছেন,তারা পণ্যের গুনগতমান বজায় রেখে ন্যায্যমূল্য রাখছেন।
নামিদামি ব্র্যান্ডের পোশাকের পাশাপশি ভীড় বেড়েছে নগরীর ফুটপাত গুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষরা তাদের পছন্দের পোশাক কিনছেন ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে।
এদিকে ঈদ কেনাকাটা নিরাপদ রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম খান বলেন,ঈদকে সামনে রেখে যাতে কোন অপরাধ সংঘটিত না হয় এবং মানুষ যাতে স্বাছন্দে কেনাকাটা করতে পারে সেজন্য শহরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।