রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে সহযোগিতা চাইলেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার সালেহী ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি না করার অঙ্গীকার ময়মনসিংহ সদর আসনের বিএনপির প্রার্থীর কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী ডঃ আতিক মুজাহিদদের নেতৃত্বে সুবিশাল নির্বাচনী গণ-মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করবো না- ডাঃ শফিকুর রহমান আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমানের কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠের জনসভা সফল করতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে বৈদেশিক পোস্টাল ভোট বাক্স সিল গালা করা হয় মাহে রমজান উপলক্ষে তরবিয়তি আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) এর আহ্বায়কসহ ২০জন জামায়াতে যোগদান তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা দীর্ঘ শুনানি শেষে সকল কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্যারিস্টার সালেহীর পক্ষে রায় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

বদলি ঠেকিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া জেলা পরিষদ কর্মচারী সাইফুল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
  • আপডেট : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৩৭ বার পড়া হয়েছে

বদলি ঠেকিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া জেলা পরিষদ কর্মচারী সাইফুল

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী সাইফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও, এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাবে তিনি এখনও বহাল তবিয়তে পূর্বের পদেই রয়েছেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে বদলি করা হয়েছিল। তবে বদলির আদেশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই সাইফুল ইসলাম তা ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে এই ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মচারী অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পরিষদের প্রশাসক তাহমিনা আক্তারকে ‘উৎকোচের’ মাধ্যমে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাহমিনা আক্তার একজন যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তা বিদায় সাইফুলের প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে না।

জেলা পরিষদের কর্মচারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠানকে বাড়িতে দাওয়াত খাইয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাগিয়ে নিয়েছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে দাপটের সঙ্গে চাকরি করে এসেছেন। সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করেন, সাইফুল ইসলাম বর্তমানে জেলা পরিষদের প্রশাসকের ‘শেল্টার’নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা না হলে সাধারণ সুবিধাভোগীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন এবং পূর্বের ন্যায় সরকারি টাকা তসরুফ হবে।
স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংগঠকরা মন্তব্য করেছেন, এই পরিস্থিতিতে সাইফুলের বদলি বিলম্বিত হলে জেলা পরিষদের উন্নয়ন খাতেও ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো অনিয়মের সাথে জড়িত না। আমাদের এক প্রতিবেশীর সাথে জমিজমা নিয়ে ঝগড়া ছিল, সেই রাগে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।”সাইফুলের বিরুদ্ধে আনীত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সেই অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এখনও চলমান।

বদলি কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসককে জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক তাহমিনা আক্তার জানান,”দুদক বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করছে, তাই সাইফুল ইসলামকে রিলিজ দেওয়া হচ্ছে না।”

এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমদ বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সাইফুল ইসলামের বদলি ঠেকাতে মরিয়া চেষ্টা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পুরো ঘটনাটিকে একটি অস্বচ্ছ ও রহস্যজনক পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ঠিক একইভাবে মন্ত্রনালয় থেকে হওয়া সাইফুলের বদলীর আদেশটি তাহলে অকার্য হয়ে থাকবে এটাই প্রশ্ন থেকে যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

আরও পড়ুন