বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে শিবিরের আয়োজনে জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বোকাইনগরে জলবদ্ধতা নিরসনে সমাজসেবক আনিসুর রহমানের মহতী উদ্যোগ এসএসসি ফলাফলে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাশের হারে এগিয়ে মেয়েরা কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে আসামীসহ ৭৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল আটক ময়মনসিংহে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা আনন্দ মোহন কলেজ শাখার নবীন বরণ অনুষ্ঠান গণভোটের গণরায় কার্যকর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ত্রিশালের সানকিভাঙ্গা বাজারে ইসলামী ব্যাংকের নতুন এজেন্ট শাখার উদ্বোধন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক)  মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত জখম নকল নবিশ মমিন গণভোটের জনরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৮১ বার পড়া হয়েছে

নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ময়মনসিংহে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার নগরের কারিতাস আঞ্চলিক অফিসের হল রুমে ইউএন উইমেন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উদ্যোগে তৃণমূল পর্যায়ে একটি নারী শান্তি নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালাটির আয়োজন করে।

কর্মশালায় তৃণমূল নারী নেত্রী, কমিউনিটি ফোরামের প্রতিনিধি, যুব সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাব এবং বাংলাদেশ সরকারের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ধারণা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা।

কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, ‘সংঘাত, সহিংসতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে নারীরা অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় এজেন্ডার মূল লক্ষ্য হলো শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নারীর সক্রিয় ভূমিকা জোরদার করার মাধ্যমে নারীর অধিকার সুরক্ষা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর অবদান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।’

আলোচনায় আরও উঠে আসে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এর আলোকে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সমন্বিত ও সমন্বয়ভিত্তিক উদ্যোগ ছাড়া এর কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) উপ পরিচালক নাসরিন বেগম। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন তৃণমূল নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আইনুননাহার, এবং শান্তি মিত্র সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুবর্ণা পলি দ্রং প্রমুখ।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় উপস্থাপনা, উন্মুক্ত আলোচনা, দলগত কাজ ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তার স্থানীয়করণের প্রাসঙ্গিকতা এবং গুরুত্ব সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।

অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘প্রশাসনের সব ক্ষেত্রেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পুরুষ নেতৃত্বের জন্য নারীরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েও প্রতিকারের জন্য আইনি সহায়তা চাইতে যেতে সংকোচ করেন কারণ যারা আইনি সহায়তা প্রদান করবেন তাদের অধিকাংশই পুরুষ।’

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডার প্রচার ও বাস্তবায়ন স্থানীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় করা হবে।

গোধূলি নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা সেলিমা আজাদ বলেন, ‘নারীর জীবনযাত্রায় ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুশাসনভিত্তিক হস্তক্ষেপ এবং মোরাল পুলিশিং নারীর স্বাভাবিক নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি।’

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) উপ পরিচালক নাসরিন বেগম বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ রেজল্যুশন শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় প্রথমবার জেন্ডার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরও পড়ুন