সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঈশ্বরগঞ্জে বোরো ধানের সমলয় প্রদর্শনীর ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস পালন ঈশ্বরগঞ্জে ফ্যানের বাতাসে ধান উড়ানোর সময় বিদ্যুৎপৃষ্টে কৃষাণীর মৃত্যু হিট স্ট্রোক আপদ- আ শ মামুন আ.লীগের সংবর্ধনায় সিক্ত ব্যারিষ্টার উম্মি ফারজানা ছাত্তার, দিলেন স্মার্ট ঈশ্বরগঞ্জ বিনির্মানের প্রতিশ্রুতি বাবাদের কাঁধে সন্তানের লাশ, ছেলের মুখ থেকে বাবা ডাক শোনা হলো না শাহ্ আলমের নানা আয়োজনে ঈশ্বরগঞ্জে প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈদের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা ঈশ্বরগঞ্জে সেলাইমেশিনসহ ঈদ উপহার পেল ২৩০ পরিবার এতিম শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করলো “জনতার ঈশ্বরগঞ্জ”   

কুয়াশা আর শিশিরে হেমন্তেই শীতের আমেজ

এহসানুল হক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় শরতের প্রথমেই শীতের আমেজ অনুভব হচ্ছে। দিনে গরম আবহাওয়া থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই প্রকৃতি যেন জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। রাতভর টিপটিপ করে শিশির পড়ছে। খোলা মাঠে দুর্বা ঘাসের উপর চিকচিক করছে শিশির ফোটা। ভোরে ফসলের মাঠ, সবজি ক্ষেত ভরে যায় শিশিরে।

আবহমান বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে আবারও শুরু হয়েছে ঋতুর পালাবদল। আবারও পাল্টাচ্ছে প্রকৃতি ও জীবন। ছয়ঋতুর বঙ্গাব্দ বর্ষপঞ্জিতে এখন চলছে কার্তিক মাস। কার্তিক-অগ্রহায়ণ এ দুই মাস বাংলায় হেমন্তকাল। আর হেমন্তকে বলা হয় অনুপম ও অপরূপ রূপের ঋতু। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্না। এ ঋতুতেই স্বপ্ন দেখেন বাংলার কৃষক-কৃষাণী। সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর হালকা কুয়াশায় প্রকৃতিতে বেজে ওঠে শীতের আগমনী বার্তা। মাঠের পাকা সোনালি ধান, কৃষকের ধান ঘরে তোলার দৃশ্য, কৃষক-কৃষাণীর আনন্দ সবই হেমন্তের রূপের অনুষঙ্গ। এ যেন হেমন্তেই শীতের হাতছানি।

এ ঋতুতে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে শুরু হয় মাছ ধরার উৎসব। বর্ষা আর শরতের বৃষ্টির জলধারা হেমন্তে শুকাতে থাকে। মাছ ভাতে বাঙালি হেমন্তকালে জাল, বর্শা, পলো ও বড়শি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। গ্রামের গেরস্থ কর্তা ঘরে ফেরে ডুলাভর্তি মাছ নিয়ে। চোখ আটকে যায় শুকনো জলাশয়ে ঝিমানো কচুরিপানার বেগুনি-শাদা ফুলকলিতে।

এদিকে দিনে গরম ও রাতে শীতের কারণে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। বিশেষ করে শিশু ও বেশি বয়স্করা সর্দি, কাশি,নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

অপরদিকে উপজেলার একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, রাতে কুয়াশা ও দিনের বেলায় গরম পরাতে ফসলি জমিতে পোকার আক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের পোকামাকড় ও বালাইনাশক স্প্রে পরামর্শ দিয়েছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.আসমা আক্তার বলেন,ঋতু পরিবর্তনের সময় সাধারণত অনেকেই ভাইরাসজনিত নানান রোগে আক্রান্ত হয়। সম্প্রতি ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালেও ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী বেশি পাচ্ছি। বিশেষ করে বর্তমানে শিশুরা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন। শিশু অসুস্থ হলে মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে এবং নিয়মিত খাবার খাওয়াতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তার ঠাণ্ডা না লাগে। তাদের ধুলাবালি থেকেও দূরে রাখতে হবে। সপ্তাহ দুয়েক অন্য বাচ্চাদের সাথে মিশতে না দেওয়া যাবে না। । শিশু একটানা তিন দিনের বেশি অসুস্থ থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত জামান বলেন, এ সময়টাতে ফসলি জমিতে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। যেকারণে আমরা আগে থেকেই সঠিক ওষুধ, সঠিক মাত্রা, সঠিক সময় ইত্যাদি নির্ধারণের পর সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে পরামর্শ দিয়েছি কৃষকদের। পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতিতে বালাইনাশক স্প্রে করারও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের উপসহকারী কৃষি অফিসারগণ মাঠে ঘুরে ঘুরে কার কি সমস্যা তা দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। যেকারণে উপজেলায় আগাম শীত ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড়ের উপদ্রবে ফসলের কোন ক্ষতি হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

আরও পড়ুন