ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে ২০২৫-২০২৬ সেসনের স্নাতক প্রথম বর্ষের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা আনন্দ মোহন কলেজ শাখার দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে।
রোববার (০৯ আগস্ট) ময়মনসিংহ নগরীর জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ময়মনসিংহ মহানগরীর সভানেত্রী তাহমিনা আক্তার মিনার সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি তাজকিয়া বিনতে তাসলিম ও প্রশিক্ষণ বিভাগের সেক্রেটারি সাদিয়া বিনতে জামানের সঞ্চলনায় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অফিস সম্পাদিকা সুমাইয়া নুসরাত মিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুমাইয়া নুসরাত মিম বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা আনন্দ মোহন কলেজ শাখার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আজকের এই দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ। প্রিয় বোনেরা, আজকের এই নবীনবরণের আনন্দঘন মুহূর্তে আমাদের একটু থমকে দাঁড়িয়ে ভাবা দরকার আসলে ‘সফল জীবন’ বলতে আমরা কী বুঝি? একজন ছাত্রীর জন্য শুধু ভালো জিপিএ পাওয়া, একটি বড় ডিগ্রি অর্জন করা কিংবা সমাজে একটি উচ্চপ্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার গড়া কি সফলতার শেষ কথা? সাময়িকভাবে হয়তো তা মনে হতে পারে, কিন্তু একজন মুমিনের কাছে সফলতার সংজ্ঞা আরও অনেক গভীর।প্রকৃত সফল জীবনের পরিচয় কেবল বৈষয়িক উন্নতিতে নয়। প্রকৃত সফলতা হলো—নিজের মেধা ও যোগ্যতাকে আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী পরিচালনা করা। নিজের চরিত্রকে কলুষমুক্ত রাখা। যখন একজন নারী তার একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে, এবং তার মেধা দিয়ে সমাজ ও উম্মাহর কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে—তখনই তার জীবন সফল হয়ে ওঠে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন—”যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেল এবং জান্নাতে প্রবেশাধিকার লাভ করল, সেই মূলত সফল হলো।” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫)। আমাদের মেধা ও সময়কে যদি আমরা আল্লাহর দ্বীনের পথে, ন্যায়ের পক্ষে এবং মানব কল্যাণে ব্যয় করতে পারি, তবেই আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবন সফল হবে। ইসলামী ছাত্রীসংস্থা আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ক্যাম্পাসের এই নতুন আঙিনায় আপনাদের সেই সফলতার পথেই আহ্বান জানাচ্ছে। আসুন, আমরা শুধু ডিগ্রিধারী না হয়ে, নৈতিকতা ও দ্বীনি জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে একজন আদর্শ নারী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলি। আপনাদের সবার কলেজ জীবন সুন্দর, নিরাপদ এবং সফল হোক এই দোয়া ও প্রত্যাশা রেখে আমি আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মহানগর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি আরিফা খাতুন, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রীসংস্থার সাবেক সভানেত্রী হামিদা আক্তার পুষ্প, সদস্যা সালমা খানমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ।