বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই পদে প্রধান শিক্ষক বল্লেন চাকরি ছেড়ে দেবো জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত সভায় ব্যারিস্টার সালেহী এমপি মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা খুন: পিতা গুরুতর অবস্থায় রংপুরে: খুনি গ্রেফতার কুড়িগ্রামে কোচিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌমিক,সন্ধান চায় পরিবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী-রাজিবপুরে মাদকসহ জুয়া খেলায় ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ১৬ লাখ টাকায় নিয়োগের অভিযোগ, আত্মগোপনে সুপার কুড়িগ্রামের রৌমারী ও কচাকাটায় ৯১ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ কুড়িগ্রামে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেমিনার অনুষ্ঠিত বিজ্ঞানাগার না থাকলেও তিন ল্যাব সহকারী নিয়োগ: মাদ্রাসায় নিয়োগের বৈঠক হয়েছে ইটভাটায়, নিয়োগ বাতিলের দাবী

উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই পদে প্রধান শিক্ষক বল্লেন চাকরি ছেড়ে দেবো

কুড়িগ্রাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমান
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সরকারি চাকুরীর আচরণ বিধিমালা- ১৯৭৯-এর বিধি ২৫(১) এর কোনো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে বিএনপিতে পদ-পদবীর লালসায় শীর্ষ দুই পদের দায়িত্ব নিলেন দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষক। যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে স্থানীয় বিএনপি থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে। আইনের ভাষায় ওই দুই শিক্ষক চাকুরী বিধি লংঘন করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সিনিয়র কয়েকজন আইনজীবী। তাদের মতে চাকুরীর আচরণ বিধিমালা লংঘনের অপরাধে লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার বিবরণে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ ২ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ প্রধান শিক্ষক। কুড়ি সদস্যের এ কমিটিতে আরও ৪ সরকারি চাকরিজীবীকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে এবং ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়েছে।

এদিকে কমিটির দায়িত্ব পাওয়া আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসু জানিয়েছেন, তিনি ও সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মুকুল সরকারি চাকরি ছেড়ে দেবেন। তবুও তারা কমিটিতে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কুড়ি সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলার রোশন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসুকে। সদস্যসচিব হয়েছেন একই উপজেলার পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুল।

এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন পশ্চিম কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন, যতীন্দ্র নারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সরকারি সাইফুর রহমান কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক শাহিনুর রহমান এবং অগ্রণী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার সিনিয়র অফিসার তহিদুল হক।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২৫(১) অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দল বা এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বা সহযোগিতা করতে পারেন না। এ বিধি লঙ্ঘন অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

কমিটিতে সরকারি চাকরিজীবীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দলীয় গঠনতন্ত্র ও সরকারি চাকরিবিধি উপেক্ষা করে ছয় সরকারি কর্মচারীকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান বলেন, দুই বছর পর কমিটি ঘোষণা করা হলেও এতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ ছয় সরকারি চাকরিজীবীকে রাখা হয়েছে, যা দলীয় গঠনতন্ত্র ও সরকারি চাকরিবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার দাবি, ওই ব্যক্তিদের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ছিল না। এ কমিটি নেতাকর্মীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসু বলেন, ‘আমি ও আমার সদস্যসচিব চাকরি ছেড়ে দেবো। আপনারা চিন্তা করবেন না। আগামীকাল চাকরিতে ইস্তফা দেওয়ার কাগজ পেয়ে যাবেন।’

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, সরকারি শিক্ষকদের রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এখনো কোনো কাগজপত্র পাননি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

অন্যদিকে, কমিটিতে সদস্য পদ পাওয়া অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা তহিদুল হক দলীয় পদে থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও বিস্তারিত বলতে চাননি। অগ্রণী ব্যাংকের কুড়িগ্রাম অঞ্চলের প্রধান আহসান হাবিব সরকার বলেন, প্রবিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা রাজনৈতিক দল বা ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত থাকতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মুকুল তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি ছাড়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন মান্নান।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম আহবায়ক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ক্রীড়াবিদ অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, সরকারি ঘোষণা মোতাবেক সরকারি চাকুরীজীবি দলীয় পদ পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে যদি কে অভিযুক্ত হয় বা কেউ অভিযোগ করে তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সেক্ষেত্রে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। আর আমি কোনো স্বাক্ষর করিনি। এই বলে তিনি ফোন কেটে দিয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে আরও জানতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদকে ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক কর্মকর্তা স্বপন কুমারকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, উক্ত বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে দুইজন চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছে অন্যরা কি করবে তদন্ত শেষে বলা যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরও পড়ুন