কুড়িগ্রাম পুরোনো শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানের একটি বড় অংশ দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি কর্মী রবিনের বিরুদ্ধে। ঈদগাহ সংলগ্ন প্রায় চার শতক জমি দখলের উদ্দেশ্যে সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙে ফেলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রবিন বেআইনিভাবে এই জমি দখল করেছেন। তবে তার দাবি, কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান কাজীউল ইসলাম তার বাবার নামে এই জমি দলিল করে দিয়েছেন। ঈদগাহ্ মাঠের জমি মেয়র কিভাবে দেয় বা দিতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাব এরিয়ে রবিন বলেন, সেটা ওনি বলতে পারবেন। তবে ঈদগাহ্ মাঠের নামাজী বলেন, মাঠের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব যাদের ওরা কি চেয়ে চেয়ে দেখতেছে? নাকি সরকারি দলের লোক এজন্য নিরব রয়েছে। সেটাই জানা দরকার বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদগাহ ময়দান একটি পাবলিক সম্পত্তি এবং পৌরসভা কেবল এর রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। কোনো পৌর চেয়ারম্যান বা মেয়রের এখতিয়ার নেই ঈদগাহের জমি কোনো ব্যক্তির নামে হস্তান্তর করার। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এই দখলের বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, ঈদগাহ ময়দানের সঠিক সীমানা ও মোট জমির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত একটি সরকারি জরিপের ব্যবস্থা করা। তারা আরও পরামর্শ দেন যে, বর্তমান সীমানা প্রাচীরের বাইরেও যদি ঈদগাহের বাড়তি কোনো জমি থেকে থাকে, তবে উপযুক্ত প্রাচীর নির্মাণ করে তা সুরক্ষিত করা প্রয়োজন।
প্রতি বছর ঈদগাহে ৫/৬ হাজারের বেশি মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করতে সমবেত হন। তবে ময়দানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে বহু মুসল্লিকে সংলগ্ন সড়কে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রামের সর্বস্তরের মুসল্লিরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সরকারি জরিপ পরিচালনা, রবিন কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধার এবং অন্য কারও দখলে থাকা ঈদগাহের অন্যান্য সম্পত্তি চিহ্নিত করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে তা সুরক্ষিত করার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
তারা জোর দিয়ে বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় জনপরিসরটি রক্ষা করা এবং ঈদে সমবেত হওয়া হাজার হাজার মুসল্লির জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ঈদগাহের জমি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।