কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়ায় বালারচর মাদ্রাসায় আলিম ও ফাজিল স্তরে বিজ্ঞানাগারের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সভাপতির (মামা-ভাগ্নের) বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে নিয়োগ কমিটি একটি ইটভাটায় গিয়ে নিয়োগের কাজ শেষ করেন বলে জানা গেছে। শনিবার উপজেলার বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। ২০২৫ সালের আলিমের রেজাল্ট সিট এ দেখা যায় বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় জেনারেল গ্রুপ থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৩৯ জন। তনমধ্যে কৃতকার্য ৩১ জন অকৃতকার্য ৮ জন। সেখানে বিজ্ঞান বিভাগের কোনো অস্তিত্ব নেই।
অভিযোগকারী ও এলাকাবাসী জানান, শনিবার সকালে মাদ্রাসার সভাপতি, অধ্যক্ষ, মাদ্রাসা বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি মো: শামিউল ইসলাম প্রামাণিকসহ কয়েকজন উপস্থিত হন। এর কিছু সময় পর চাকরি প্রার্থীরা মাদ্রাসায় আসেন। বন্ধের দিন সেখানে লোকজনের উপস্থিতি দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে চান। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোবাশ্বের রাশেদিন এলাকার লোকজনকে জানান, মাদ্রাসায় পাঁচটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে তিনজন ল্যাব সহকারী, একজন অফিস সহায়ক ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। নিয়োগ কমিটি চাকরিপ্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য এসেছেন। এ সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে নিয়োগ কমিটি ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরে কয়েক কিলোমিটার দূরে ধামশ্রেণী ইউনিয়নের সাতকুড়া এলাকার একটি ইটভাটায় গিয়ে কমিটি বৈঠকে মিলিত হয়। বিকেলে পাঁচজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় অভিযোগকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি ও অধ্যক্ষ মামা ভাগ্নে মিলে গোপনে অবৈধভাবে তিনজন ল্যাব সহকারীর মধ্যে একজন অধ্যক্ষের ছেলে মোস্তাকিম বিল্লা একজন সভাপতির ছোট ভাই মাসুম বিল্লা অন্যজন এর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকায় এবং একজন অফিস সহায়ক ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছে। এভাবে তাঁরা বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ কারণে লুকোচুরি করে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মাদ্রাসার বিদ্যোৎসাহী সদস্য, সহকারী অধ্যাপক মো: নুরুন্নবী বাশার বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষা সম্পর্কে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আগেও তিনজনকে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এবারও আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। যা হচ্ছে তা সব অতি গোপনে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা, এ কারণে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসায় একটা মানসম্মত টয়লেটও নেই। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে খুব ইচ্ছে ছিল, কিন্তু প্রিন্সিপালের কারণে তা সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি আরও বলেন, সবমিলিয়ে মাদ্রাসাটির বেহাল অবস্থা। এছাড়াও আরও অনেক কিছু শোনা যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেছেন বর্তমান অধ্যক্ষ মোবাশ্বের রাশেদীন প্রতিষ্ঠানের কাউকে বিশ্বাস করে না। সেকারণে অধ্যক্ষ সকল নিয়োগ তার ভাগ্নে সভাপতিকে নিয়ে অতি গোপনে সেরে ফেলেন।
সভাপতি আব্দুল মমিন আনছারী সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় সেখানে কথা-কাটাকাটি হওয়ার কারণে ফেরার পথে ইটভাটায় বসে সমন্বয় করা হয়েছে।
উক্ত নিয়োগ বোর্ডে ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মো: শামিউল ইসলাম প্রামাণিক, উপ-পরিচালক (প্রশাসন), মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি ও সিনিয়র মাদ্রাসা শাখার মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)’র দেয়া পত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ল্যাব সহকারি (পদার্থ) ল্যাব সহকারী (রসায়ন) ল্যাব সহকারী (জীববিজ্ঞান) ও অফিস সহায়ক এবং পরিছন্নতা কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত পত্র ইস্যু করা হয়েছে। যার সূত্র : (১) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শাখা-২৪ (মাদ্রাসা-) এর স্মারক নং-শিম/শাখা:২৪/বিবিধ-২-৮/২০০৮ (অংশ)/২৭৪,তারিখ : ০৯.০৯.২০১৫খ্রি.
(২) বর্ণিত মাদ্রাসার স্মারক নং-বা. না. ফা. মা/উলি/কুড়ি/নি:/০৮/২৬, তাং-০৯.০৯.২৬খ্রি. ডকেট নং-২১১৫৫, তাং-১০.০৯.২৬খ্রি.।