কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী দুই সন্তানকে ও শ্যালিকাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন প্রভাষক শহিদুল ইসলাম। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে।
নিহতরা হলেন রৌমারী টেকনিক্যাল জলেজের প্রভাষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (২৬), ছেলে রিশাদ মিয়া (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)। এবং প্রভাষক শহীদুল ইসলামের শ্যালিকা কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২)সহ নজরুল ইসলাম (৪২) শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাঁচ আরোহী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লিপি বেগম ও তাঁর দুই সন্তান।
এ ঘটনায় নিহত অন্য দুজন হলেন যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২) এবং রাজীবপুর উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪২)। রোববার সকালে তাঁদেরও নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তানরা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পান্তামারী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ বাজারের শিবেরডাঙ্গি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও দুজন।
জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয়দের মধ্যে কলেজশিক্ষক একরামুল হক বলেন, শহিদুল ইসলামের দুই সন্তান তাঁর সন্তানের সঙ্গে পড়াশোনা করত। ছেলে রিশাদ এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং করানোর পরিকল্পনাও ছিল পরিবারের। কিন্তু মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিবারের সব স্বপ্ন যেন এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।
দুর্ঘটনায় বৃষ্টি খাতুন (২৫) নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার কুড়িগ্রামের (রৌমারী সার্কেল) রাসেল কবির বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।