মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে নাটকোচ-অটো মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত-২ আহত অন্তত ৭ কুড়িগ্রামের উলিপুরে এবং ফুলবাড়ীতে ৬০৩ পিস ইয়াবাসহ আটক-২ কুড়িগ্রামে মা-মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতাম কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী মহাসড়কে ফুটপাতের দাবিতে হাজারও মানুষের মানববন্ধন কুড়িগ্রাম জেলা পর্যায়ে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামের ধরলা সেতুর ওপর ট্রলি ও অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষ গুরুতর রক্তাক্ত ৪ কুড়িগ্রামে বিজিবি কর্তৃক ২ জন আটকসহ ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল উদ্ধার ফুলবাড়ীতে জমি জালিয়াতির অভিযোগে দলিল লেখকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কুড়িগ্রামে জুয়ার টাকা নিয়ে অপহরণ অতপর ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহের জমি দখলের অভিযোগ বিএনপি কর্মী রবিনের বিরুদ্ধে

কুড়িগ্রামে মা-মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতাম

কুড়িগ্রাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমান
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ের মৃত্যুতে সদর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় শোকের মাতাম। নিহত শিশু মনিকার বয়স ৬ বছর। সে ১ম শ্রেণিতে পড়তো। পিংকি গাড়ি আবার রাস্তায় চলাচল করবে কিন্তু মেয়েটি আর খেলবে না, হাসবে না। পিতা তার আদরের মেয়েকে আর কোনোদিন দেখবেনা। নিহত শিশু মনি(৬) মা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা আদুরী(২৩) ও পেটে থাকা সাত মাসের পুত্র সন্তান।

বেপরোয়া গতিতে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে কাঁঠালবাড়ী এলাকায় বিদ্যা কানন নামের একটি বিদ্যালয়ের সামনে সোমবার রাত ৯ টারদিকে পিঙ্কি নামের একটি যাত্রীবাহী পরিবহন বিপরিত দিক থেকে আসা ব্যাটারী চালিত অটোর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে নিহত মনি। এতে আহত হয়েছে অন্তত ৭ জন। আহতদেরকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, মনির মা আদুরীর(২৩)অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে চিকিৎসক। সেখানেই সে পেটের সাত মাসের পুত্র সন্তান সহ মারা যায় বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ খুজতে অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্ঘটনার ৩ দিন আগে উলিপুর উপজেলায় দূর্গাপুজার আনন্দ শেষে কুড়িগ্রাম জেলা সদরের ত্রিমোহনী বাজার এলাকার হাড়িপাড়ার দরিদ্র ঢোলবাদক দুলাল (২৬) তার শ্বশুর বাড়ীতে, সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আদুরী(২৩) তার বাবার বাড়ীতে আর কলিজার টুকরা মেয়ে মনি(০৬) তার নানার বাড়ী লালমনিরহাটের কুলাঘাট এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনদিন থাকার পর সোমবার রাতে অটোযোগে একসঙ্গে নিজ বাড়ীতে ফেরার পথে কাঁঠালবাড়ী এলাকায় পিংকি বাসের প্রচন্ড ধাক্কায় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান মনি। মা আদুরী ও তার পেটে থাকা সাত মাসের পুত্র সন্তানও নিহত হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুরে। বাবা দুলাল এখনো বেঁচে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। আনন্দের মাঝে নিমিষেই ভিনিষ একটি পরিবারের স্বপ্ন।

পঙ্গুত্ত নিয়ে তার এই বেঁচে থাকাকে কি সত্যিই বেঁচে থাকা বলে? এর দায় কি রাষ্ট্র এড়াতে পারে?

প্রায় প্রতিদিন সড়কে মৃত্যুর মিছিল থেকে বাঁচার কি কোন উপায় নাই?

উল্লেখ্য যে, দুনিয়ার আলো দেখার আগেই সাত মাস মায়ের পেটে থাকাবস্থায় নিহত পুত্র, ০৬ বছরের আদরের কন্যা ও জীবনের অর্ধাঙ্গীনী স্ত্রী হারানো দুলাল ওরফে অনন্ত মালির বড় ভাই নগেন মালি খলিলগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের দপ্তরী ছিলেন এবং অবসর গ্রহণের পর তিনি মারা গেছেন বলে জানা যায়।

সচেতন মহলের দাবী অসতর্কতায় অসাধারনে সড়ক মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে চলার কারণে দুর্ঘটনার কবলে অকালেই ঝড়ে পরছে হাজারো প্রাণ। পঙ্গুত্ত বরন করে অজস্র পরিবারের বোঝা হয়ে অতি কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে অসংখ্য মানবজীবন।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরও পড়ুন