বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিভিন্ন কর্মসূচীতে ২৮ অক্টোবর পালন করলো কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াত-শিবির কুড়িগ্রামের ভূরুংগামারী ও চিলমারীতে ভারতীয় চোরাকারবারি আটক-২ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী কোচ দুর্ঘটনায় নিহত ৩ আহত ১৮ কুড়িগ্রামে নাটকোচ-অটো মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত-২ আহত অন্তত ৭ কুড়িগ্রামের উলিপুরে এবং ফুলবাড়ীতে ৬০৩ পিস ইয়াবাসহ আটক-২ কুড়িগ্রামে মা-মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতাম কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী মহাসড়কে ফুটপাতের দাবিতে হাজারও মানুষের মানববন্ধন কুড়িগ্রাম জেলা পর্যায়ে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামের ধরলা সেতুর ওপর ট্রলি ও অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষ গুরুতর রক্তাক্ত ৪ কুড়িগ্রামে বিজিবি কর্তৃক ২ জন আটকসহ ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল উদ্ধার

বিভিন্ন কর্মসূচীতে ২৮ অক্টোবর পালন করলো কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াত-শিবির

কুড়িগ্রাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমান
  • আপডেট : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

ইতিহাস স্মরণে, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল সফল করার আহব্বান ছিল জেলা জামায়াত শিবিরের। এরই ধরাবাহীকতায়, শহীদ রফিকের কবর জেয়ারত, দোয়া মাহফিল আলোচনা সভা ও বিক্ষোভসহ দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচীতে ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি পালন করলো কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। জেলা জামায়াত শিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশ গ্রহনে কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ মাঠ থেকে জেলা আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকারের নেতৃত্বে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের শাপলা চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়ার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক পল্টন ময়দাসহ সাড়া দেশে আওয়ামীলীগ হত্যাজজ্ঞ চালিয়ে জামায়াত শিবিরের ৭জন সহ সাড়া দেশে কমপক্ষে ৫৪ জনকে হত্যা করেছে। অবিলম্বে খুনিদের বিচার করুন করতেই হবে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলী সরকার, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল হাই, কুড়িগ্রাম শহর শাখা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।

আরও বক্তব্য রাখেন, কুড়িগ্রাম জেলা শিবিরের সভাপতি মোশারফ হোসেন, জেলা সেক্রেটারি মোবাশ্বের, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রোমান ও সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল।

বক্তৃতায় জেলা আমীর আরও বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলংকজনক অধ্যায়ের সৃষ্টিকারী কথিত ১৪ দলীয় জোট পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা তাণ্ডবের দুই দশক পূর্তি পল্টন ট্রাজেডির ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার নির্দেশে সেদিন প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পিটিয়ে কুড়িগ্রামের শহীদ রফিকসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। এরপর লাশের ওপর নৃত্য-উল্লাসে মেতে ওঠে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাতে সেদিন হাসিনার বাসভবন সুধাসদন থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে।

নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ও পাশবিকতায় জাতিসংঘসহ দেশে-বিদেশে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। বিভীষিকাময় এ ঘটনায় পরে মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে এসে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করে ইতিহাসের বর্বরতম ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। হত্যার বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, পরবর্তী সময়ে নানাভাবে আওয়ামী নির্যাতনের শিকার হয়েছে শহীদ পরিবারগুলো। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আশায় বুক বেধে বিচারের নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন তারা। ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো পুনরায় সচল করা এবং প্রয়োজনে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে শহীদ পরিবার ও জামায়াত। এসব দাবির পাশাপাশি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২৮ অক্টোবর কলঙ্কজনক পল্টন ট্র্যাজেডির সেই ভয়াল স্মৃতি স্মরণ করছে জামায়াত-শিবির।

Please Share This Post in Your Social Media

আরও পড়ুন