বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীর দূর্গম চরে পতিতাবৃত্তি, অশ্লীল নাচ, মাদক ও জুয়ার আসর গুড়িয়ে দিলো পুলিশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দয়িত্বশীল সমাবেশে অ্যাড: আতিকুর ভূরুঙ্গামারীর মুগ্ধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে আটক-১, ম্যানেজার পলাতক কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ফুলবাড়ীতে জুয়ার আসরে দেড় লক্ষাধিক টাকাসহ আটক-১৫ কুড়িগ্রামের চার উপজেলায় চব্বিশ কোটি টাকার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ৪ বছরেও চালু হয়নি কুড়িগ্রামের উলিপুরে পাঁচপীর বাজারে গ্রামীণ বাজার ছাউনি ও ওয়াশ ব্লকের উদ্বোধনসহ দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত কুড়িগ্রামে শিবিরের আয়োজনে জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বোকাইনগরে জলবদ্ধতা নিরসনে সমাজসেবক আনিসুর রহমানের মহতী উদ্যোগ এসএসসি ফলাফলে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাশের হারে এগিয়ে মেয়েরা কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে আসামীসহ ৭৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল আটক

অফিস ছেড়ে প্রাইভেটে ব্যস্ত প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা, অপেক্ষায় গভীর ঘুমে সেবা প্রার্থীরা

এহসানুল হক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩
  • ১১০৬ বার পড়া হয়েছে

রোগাক্রান্ত গরু,ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর চিকিৎসা নিতে এসে অপেক্ষায় কৃষক- খামারিরা। কেউ বসে আছেন, কেউবা ডাক্তারকে না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে। কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় থেকে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার কক্ষে চেয়ারে বসেই ঘুমাচ্ছেন। বলছিলাম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের কথা।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেটে চিকিৎসা ব্যস্ত সময় পার করেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম। জানা গেছে, সকালে অফিসে এসে স্বাক্ষর করে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন।এরপর তিনি নিজ কর্মস্থলে ডিউটি না করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেট ভাবে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ফি নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮ টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ডিউটি করার কথা থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম অধিক টাকার লোভে প্রাইভেটে ব্যস্ত সময় পার করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পল্লী চিকিৎসক জানান, তিনি (প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা) সকালে এসে অফিসে স্বাক্ষর করে হাবিবউল্লাহ নামের এক পল্লী চিকিৎসককে সাথে নিয়ে বের হয়ে যান। হাবিবউল্লাহর মোটরসাইকেল যোগে মাথায় হেলমেট পড়ে চষে বেড়ান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নেন ভিজিট।

বিগত তিন-চারদিন বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তার নিজ কর্মস্থলে নেই। তিনি কোথায় আছেন জিজ্ঞেস করলে অফিসের লোকজন জানান, স্যার বাহিরে আছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেটে ভিজিট করতে বের হয়েছেন।

কথা হয় উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের গৃহস্থ
বায়তুল্লার সাথে। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় লাম্পি স্কিন রোগ ব্যাপকহারে হানা দিয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লোকজনকে খবর দিয়েও পাওয়া যায় না।খবর দিলে বাড়িতে যায় না ডাক্তার।বাধ্য হয়ে আসি প্রাণী সম্পদ হাসপাতালে। হাসপাতালে এসে অনেক সময় অপেক্ষা করে ফেরত আসি। দেখা পাইনি বড় ডাক্তারের(প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার)। উনার অফিসে গিয়ে দেখি আমার মতো অনেকেই ঘুরে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকায় ১০ থেকে ১৫ টি গরু মারা গিয়েছে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে। পরে কয়েকদিন ঘুরাঘুরি করে আমার গরুর চিকিৎসা করাই। তবে চিকিৎসা পেতে ভোগান্তির শেষ নেই।
এবিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মাহবুবুল আলম বলেন, আনিত অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।

এপ্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. হাফিজা জেসমিন বলেন, অফিস টাইমে বাহিরে প্রাইভেট চিকিৎসা দেওয়ার কোন নিয়ম নেই।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুমারী খাতুন বলেন, অনেক সময় মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ থাকে,যে কারণে অফিস ছেড়ে বাহিরে যেতে হয়। তবে অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেটে ভিজিট নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তাকে এবিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করব।’

Please Share This Post in Your Social Media

আরও পড়ুন